এই অনুচ্ছেদটি আমাদের Bengali Writing Hub এবংParagraph Writing for School এর জন্য সংগ্রহের অংশ।যেখানে একজন শিক্ষার্থী সুগঠিত বক্তৃতা, অনুচ্ছেদ এবং প্রবন্ধ খুঁজে পেতে পারে।
বলো তো, তোমার প্রিয় খাবার কোনটা? গরম গরম ভাত-ডাল? নাকি ঈদের দিনের বিরিয়ানি? নাকি মায়ের হাতের সেই পোলাও যেটার গন্ধ পেলেই ছুটে যাও রান্নাঘরে?
আচ্ছা, একটা কথা বলি — খাবারের নাম শুনলেই আমাদের মুখে পানি আসে, তাই না? ছোটবেলা থেকে আমরা সবাই কোনো না কোনো খাবারকে বেশি ভালোবাসি। কারো কাছে সেটা মায়ের হাতের রান্না, কারো কাছে দাদির বানানো পিঠা, আবার কারো কাছে বাবার সাথে বাইরে গিয়ে খাওয়া ফুচকা। খাবার জিনিসটাই এমন — এটা শুধু পেটের ক্ষুধা মেটায় না, মনটাকেও ভরিয়ে দেয়।
এখন কথা হলো, স্কুলে যখন স্যার বা ম্যাম বলেন “আমার প্রিয় খাবার অনুচ্ছেদ” লেখো — তখন অনেকেরই মাথা ঘুরে যায়। কী দিয়ে শুরু করবো? কতটুকু লিখলে হবে? কঠিন শব্দ ব্যবহার করতে হবে নাকি সহজ করে লিখবো?
একদম ঘাবড়াবে না। আমি এখানে ক্লাস ১ থেকে শুরু করে ক্লাস ৮ পর্যন্ত — প্রত্যেকটা ক্লাসের জন্য আলাদা করে অনুচ্ছেদ লিখে দিয়েছি। তুমি যে ক্লাসেই পড়ো, তোমার জন্য একটা নমুনা এখানে আছে। পড়ো, বুঝো, তারপর নিজের ভাষায় লেখো। হুবহু কপি না করে নিজের কথা মিশিয়ে দিলেই লেখাটা জীবন্ত হয়ে উঠবে।
ছোটদের জন্য রেখেছি ছোট ছোট সোজা বাক্য। আর যারা ক্লাস ৬, ৭, ৮ এ পড়ো — তোমাদের জন্য একটু বড় করে, গোছানো ভাবে লেখা আছে। চলো তাহলে শুরু করি!
যেসব শিক্ষার্থী লেখালেখি করতে ভালোবাসে তারা তাদের অনুভূতি আরও ভালোভাবে প্রকাশ করার জন্য আমার গ্রাম অনুচ্ছেদ এবং আমার পোষা প্রাণী পড়তে পারে।

ক্লাস ১ ও ২ এর জন্য আমার প্রিয় খাবার অনুচ্ছেদ | My Favorite Food Paragraph for Classes 1 and 2
আমি গরম ভাত আর ডাল খেতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি। এটা আমার সবচেয়ে প্রিয় খাবার। মা রোজ আমার জন্য রান্না করেন। মাঝে মাঝে আমি চামচ দিয়ে খাই, আবার অনেক সময় হাত দিয়েও খাই। গরম গরম ভাতে ডাল মাখিয়ে খেলে আমার পেটও ভরে, মনও ভালো হয়ে যায়। সবচেয়ে মজা লাগে যখন বাবা, মা, আমি — সবাই মিলে একসাথে বসে খাই। সেই সময়টা আমার খুব প্রিয়। আমি চাই প্রতিদিন এই খাবার খেতে।
ক্লাস ৩ থেকে ৫ এর জন্য আমার প্রিয় খাবার অনুচ্ছেদ | My Favorite Food – A Paragraph for Classes 3 to 5
আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে “তোমার প্রিয় খাবার কী?” — আমি সাথে সাথে বলবো, সবজি পোলাও! এই খাবারটার কথা ভাবলেই আমার মনটা ভালো হয়ে যায়। দেখতে রঙিন, গন্ধটা অসাধারণ, আর খেতে তো কথাই নেই! মা যখন পোলাও রান্না করেন, রান্নাঘর থেকে এমন একটা গন্ধ আসে যে আমি বারবার গিয়ে জিজ্ঞেস করি “মা, হলো কি?” মা পোলাওয়ের ভেতরে গাজর দেন, মটরশুঁটি দেন, ক্যাপসিকাম দেন, টমেটোও দেন। ফলে খাবারটা রঙে ভরপুর আর পুষ্টিতেও ভরা। আমি বেশিরভাগ সময় দুপুরে এই খাবার খাই। একবার খেলে অনেকক্ষণ আর খিদে লাগে না। স্কুলে টিফিনের সময় মাঝে মাঝে বন্ধুদের একটু দিই — তারাও বলে “ভাই, তোমার মায়ের পোলাও তো দারুণ!” শুনে আমার খুব ভালো লাগে। আমি বিশ্বাস করি, এই পোলাওই আমাকে হাসিখুশি আর চনমনে রাখে।
ক্লাস ৬ থেকে ৮ এর জন্য আমার প্রিয় খাবার অনুচ্ছেদ | My Favorite Food: A Paragraph for Classes 6–8
অনেকে হয়তো ভাববে প্রিয় খাবার মানে নিশ্চয়ই বিরিয়ানি, পিৎজা বা বার্গার। কিন্তু আমার প্রিয় খাবার একদম সাদামাটা — গরম ভাতের সাথে মায়ের হাতে রান্না করা সবজির তরকারি। হ্যাঁ, এটাই। শুনতে সাধারণ মনে হলেও এই খাবারের স্বাদ একবার পেলে বোঝা যায় — সাধারণের মধ্যেই অসাধারণটা লুকিয়ে থাকে।
মা প্রতিদিন বাজার থেকে যে সবজি আনেন, সেদিন সেটা দিয়েই তরকারি হয়। কখনো লাউ, কখনো পটল, কখনো বেগুন। প্রতিদিন স্বাদ একটু আলাদা, কিন্তু ভালোবাসাটা একই রকম। ভাতের সাথে গরম গরম তরকারি মেখে যখন প্রথম লোকমা মুখে দিই — সারাদিনের সব ক্লান্তি উবে যায়। মনে হয়, এই তো আসল আরাম।
স্কুলে ছয়-সাত ঘণ্টা কাটিয়ে বাড়ি ফিরে এই খাবার খেলে গায়ে শক্তি আসে। বিকেলে পড়তে বসলে মাথা ঠিকমতো কাজ করে। আমি লক্ষ্য করেছি, যেদিন বাইরের ভাজাপোড়া বা ফাস্ট ফুড খাই, সেদিন শরীরটা কেমন যেন ভারী লাগে, পড়ায় মন বসে না। কিন্তু ঘরের রান্না খেলে এই সমস্যা হয় না।
সত্যি বলতে, মায়ের রান্না খেয়ে আমি একটা জিনিস বুঝেছি — বাইরের খাবার যতই চকচকে হোক, শরীরের জন্য ঘরে বানানো সাধারণ খাবারই সবচেয়ে ভালো। তাই আমি রোজ ঘরের ভাত-তরকারি খাই। বন্ধুদেরও বলি — ভাই, ফাস্ট ফুড মাঝে মাঝে ঠিক আছে, কিন্তু রোজ রোজ না। ঘরের খাবার খাও, সুস্থ থাকবে।
কেন “আমার প্রিয় খাবার” বিষয়টা স্কুলে এত বেশি আসে? | Why does the topic of “My Favorite Food” come up so often in school?
ভেবে দেখো তো — এমন কোনো মানুষ আছে যার প্রিয় কোনো খাবার নেই? নেই। আমরা সবাই কিছু না কিছু খেতে ভালোবাসি। তাই এই বিষয়ে লিখতে হলে বই খুলে পড়ার দরকার পড়ে না। নিজের মাথা থেকেই সব আসে।
আর এটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা। তুমি যখন নিজের কথা লেখো, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখো — তখন লেখাটা আর আটকে থাকে না। কলম চলতেই থাকে। ছোটরা দুই-তিন লাইন লিখবে, সেটাও যথেষ্ট। বড়রা একটু বিস্তারিত লিখবে, সেটাও ভালো। কোনোটাই ভুল না, কারণ এখানে তোমার নিজের পছন্দের কথা — তুমিই সবচেয়ে ভালো জানো।
স্কুলের শিক্ষকরা এই বিষয়টা বারবার দেন কারণ এতে বাচ্চারা মুখস্থ না করে নিজের থেকে লেখে। চিন্তা করতে শেখে, গুছিয়ে বলতে শেখে। একটা অনুচ্ছেদ কীভাবে শুরু করতে হয়, মাঝখানে কী থাকবে, শেষটা কেমন হবে — এসব ধীরে ধীরে রপ্ত হয়ে যায়। লেখালেখি আর ভয়ের জিনিস থাকে না, বরং মজার হয়ে ওঠে।
এই অনুচ্ছেদটি কি উপভোগ করছেন? প্রতিদিন প্রবন্ধ, অনুচ্ছেদ ও লেখার টিপস পেতে এখানে আসুন:
শেষ কথা | Final Words
“আমার প্রিয় খাবার অনুচ্ছেদ” — এটা পরীক্ষার খাতায় শুধু একটা প্রশ্ন না। এটা আসলে তোমার নিজের গল্প বলার সুযোগ। তোমার মায়ের রান্নার কথা, পরিবারের সাথে খাওয়ার কথা, সেই বিশেষ খাবারের কথা যেটা খেলে তোমার মনটা ভালো হয়ে যায় — সবকিছু এখানে লেখা যায়।
আর জানো কী? যে ছেলে বা মেয়ে এই বিষয়ে সুন্দর করে লিখতে পারে, সে শুধু ভালো নম্বর পায় তা না — সে আসলে বুঝতে শেখে ঘরের খাবার কেন দরকার, ফাস্ট ফুড কেন রোজ খাওয়া উচিত না। এই ছোট্ট একটা অনুচ্ছেদ থেকে অনেক বড় শিক্ষা পাওয়া যায়।
তো আর দেরি কেন? ওপরে তোমার ক্লাসের নমুনাটা একবার পড়ো। তারপর খাতা-কলম নিয়ে বসে যাও। তোমার নিজের প্রিয় খাবারের কথা, তোমার নিজের ভাষায় লেখো। হুবহু কপি কোরো না — নিজের অনুভূতি মেশাও। দেখবে, লেখাটা এমন হবে যে স্যার পড়ে হাসবেন আর বলবেন “বাহ, চমৎকার হয়েছে!”
পরীক্ষার জন্য আরও সহজ অনুচ্ছেদ(paragraph) চান? আমাদের বিনামূল্যের WhatsApp ও Telegram কমিউনিটিতে যোগ দিন:
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: আমার প্রিয় খাবার অনুচ্ছেদটা কীভাবে শুরু করবো?
দেখো, শুরুটা নিয়ে বেশি চিন্তা করার কিছু নেই। একদম সোজাসুজি বলে দাও — “আমার প্রিয় খাবার হলো…” ব্যস, এটুকুই যথেষ্ট। আর চাইলে একটু অন্যভাবেও শুরু করতে পারো, যেমন — “আমি সবচেয়ে বেশি ভাত-ডাল খেতে ভালোবাসি” কিংবা “মায়ের হাতের সবজির তরকারি আমার কাছে পৃথিবীর সেরা খাবার।” যেভাবেই শুরু করো, নিজের মনের কথাটা আগে বলো — বাকিটা এমনিই আসবে।
প্রশ্ন ২: লেখায় কোন ধরনের শব্দ ব্যবহার করবো?
এটা নিয়ে একদম মাথা ঘামানোর দরকার নেই। তুমি যেভাবে কথা বলো, সেভাবেই লেখো। “গরম গরম”, “খিদে পেয়েছে”, “মায়ের রান্না”, “পেট ভরে গেছে”, “খুশি লাগে” — এরকম একদম চেনাজানা শব্দ দিয়েই সুন্দর অনুচ্ছেদ হয়ে যায়। আর তুমি যদি ক্লাস ৬, ৭ বা ৮ এ পড়ো, তাহলে “স্বাস্থ্যকর”, “পুষ্টিকর”, “স্মৃতি”, “শক্তি” — এরকম কিছু শব্দ মেশাতে পারো। কিন্তু জোর করে কঠিন শব্দ ঢোকানোর কোনো মানে নেই। সহজ কথাই সবচেয়ে ভালো কথা।
প্রশ্ন ৩: অনুচ্ছেদটা বড় করে গুছিয়ে কীভাবে লিখবো?
একটা সহজ কৌশল বলি। মনে মনে নিজেকে কয়েকটা প্রশ্ন করো, তারপর উত্তরগুলো লিখে দাও —
তোমার প্রিয় খাবারটা কে রান্না করে? মা, দাদি, নাকি বাবা?
তুমি এটা কখন খাও? দুপুরে, রাতে, শুক্রবারে, নাকি ঈদের দিন?
কীভাবে খাও? চামচ দিয়ে, হাত দিয়ে, গরম গরম ফুঁ দিয়ে?
খাওয়ার পর কেমন লাগে? মন ভালো হয়ে যায়, ক্লান্তি কেটে যায়, নাকি আরও খেতে ইচ্ছে করে?
এই খাবারের সাথে তোমার কোনো মজার স্মৃতি আছে? যেমন একদিন বন্ধুকে দিয়েছিলে আর সে বলেছিল “দারুণ রান্না!”, অথবা মা বলতেন “আরেকটু খাও, শরীর ভালো থাকবে।”
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে দিতেই দেখবে অনুচ্ছেদটা বড় হয়ে গেছে, আর পড়তেও ভালো লাগছে।
ইংরেজি বিভাগ দেখতে ভিজিট করুন:
English Writing Section
Student Writing Hub থেকে আরও পড়ো:
শিক্ষার্থীরা নীচের মন্তব্যে তাদের নিজস্ব প্রবন্ধগুলিও শেয়ার করতে পারে।