বাবা। এটি এমন একটা শব্দ যা আমাদের জীবনের প্রথম ও শেষ পর্যন্ত থেকে যায়। এই ছোট্ট শব্দটার ভেতরে যে কতটা ভালোবাসা, কতটা নির্ভরতা লুকিয়ে থাকে, তা বুঝতে ও বোঝাতে গোটা জীবন লেগে যায়।
স্কুলে “আমার বাবা” রচনা লিখতে দেওয়া হয় প্রায় প্রতিটা শ্রেণিতে। কেউ ১০০ শব্দে, কেউ ৩০০ শব্দে, কেউ আবার ৫০০ শব্দের রচনা লিখে থাকে । কিন্তু শব্দসংখ্যা যাই হোক, লেখার আসল কথাটা একই থাকে: তুমি তোমার বাবাকে কতটা চেনো, আর কতটা ভালোবাসো।
এই লেখায় আমি শ্রেণি ১ থেকে ৮ পর্যন্ত সবার জন্য “আমার বাবা” রচনার নমুনা দিয়েছি । তার সাথে লেখার কৌশল, কী লিখতে হবে, কেন লিখতে হবে, কী এড়িয়ে চলবে, আর কীভাবে সবার থেকে আলাদা লিখতে হবে তার একটা বিবরণ দিয়ে দিয়েছি ।
আমার বাবা রচনা কেন তোমার প্রয়োজন?
প্রথম কথা, এটা পরীক্ষায় আসে। প্রায় প্রতিটা শ্রেণিতেই বাংলা পরীক্ষায় “আমার বাবা” বা “আমার পরিবার” রচনা লিখতে হয়। সেটা লিখতেও হয় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য। এই রচনাটি বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ । ঠিক এই কারণেই এই রচনাটি আমাদের ভালোভাবে জানা দরকার।
দ্বিতীয় কথা, এটা শুধু পরীক্ষার জন্য নয়। বাবার সম্পের্কে সঠিক ভাবনা থাকলেই একটা ভালো রচনা লিখতে সক্ষম হতে পারবে। তাই সংগঠিত লেখা ভালো নম্বর আনতে সাহায্য করে। ঠিক এই কারণেই এই রচনাটি আমাদের ভালোভাবে বোঝা দরকার।
তৃতীয় কথা, নিজে থেকে লেখার অভ্যাস করতে শুরু করো- রাড়ির কাজ , স্কুলের কাজ বা ডেইরির পাতা ভরাতে শুরু করো। বাবা-মা-পরিবার নিয়ে লিখতে পারলে যেকোনো রচনা তোমার কাছে সহজ হয়ে যাবে।

শ্রেণি ১-২ এর জন্য আমার বাবা রচনা (১০০ শব্দ)
আমার বাবার নাম মিহির। তিনি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত কোষাদক্ষ। বাবার বয়স ৪২ বছর। তিনি দেখতে লম্বা ও শ্যামলা ।
বাবা প্রতিদিন অফিসে যান। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আমাকে পড়ান। বাবা আমাকে অনেক ভালোবাসে ও স্নেহ করেন। বাবা আমাকে সাইকেল চালানো ও সাঁতার কাটানো শিখিয়াছেন।
আমি বাবাকে অনেক ভালোবাসি। বড় হয়ে আমি বাবার মতো সৎ ও নিষ্ঠ্যবান মানুষ হতে চাই।
শ্রেণি ১-২ এর জন্য আমার বাবা রচনা (১০০ শব্দ)
আমার কাছে যে মানুষটি সবথেকে প্রিয়জন, তিনি আমার বাবা। তার নাম মিহির দাস । তিনি একজন ব্যাংকে কর্মকর্তা কোষাদক্ষ ।
আমার বাবার বয়স প্রায় ৪২ বছর। তিনি দেখতে মাঝারি গড়নের, গায়ের রং শ্যামলা, এবং চশমা পরেন । তাঁর মুখে সবসময় একটা মৃদু হাসি লেগে থাকে। বাবা হাফহাতা জামা ও ফর্মাল পেইন্ট পরতে ভালোবাসেন।
বাবা ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ-হাত-পা ধুয়ে জামা কাপড় পাল্টে হালকা ব্যায়াম করেন।তার পর তিনি নিজের চাষের মাঠ দেখতে যান.কখনো আমিও ওনার সাথে মাঠ পরিদর্শন করতে যাই। ভোরের বাতাস ও বাবার সঙ্গ আমি খুব উপভোগ করি।
বাবা খুব মিতব্যয়ী। নিজের জন্য কিছু কেনেন না বললেই চলে। কিন্তু আমার স্কুলের প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন – বই, খাতা, জামাকাপড়, স্কুলের ব্যাগ কিনতে কার্পণ্য করেন না। গত পয়লা বৈশাখে নিজে পুরোনো জামা কাপড় পরেছেন কিন্তু আমাকে ও মাকে নুতুন কাপড় কিনে দিয়েছেন।
বাবা শুধু আমার বাবা নন, আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। আমি স্কুলের সব ঘটনা বাবাকে বলি। বাবাও আমার কথা মন দিয়ে শোনেন।
আমি প্রতিদিন ঈশ্বরের কাছে প্রাথনা করি, বাবা যেন সুস্থ থাকেন। বাবার জন্যই আজ আমি এত সুন্দর জীবন কাটাচ্ছি।
শ্রেণি ৫-৬ এর জন্য আমার বাবা রচনা (৩০০ শব্দ)
ভূমিকা:
“বাবা” শব্দটা ছোটবেলা থেকে শোনা আরো খুব পরিচিত যার মধ্যে লুকিয়ে আছে নিরাপত্তা, ভালোবাসা আর নির্ভরতা। প্রত্যেক সন্তানের কাছে তার বাবাই পৃথিবীর সবচেয়ে বোরো সুপার-হিরো। আমার কাছেও তাই।
বাবার পরিচয়:
আমার বাবার নাম মিহির কুমার দাস। তার বয়স ৪২ বছর। সে একজন কোষাদক্ষ এবং একটি সরকারি ব্যাংকে দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ কর্মরত। বাবা একটি সরকারি ইউনিভার্সিটি থেকে বাণিজ্য বিষয়ের ওপর স্নাতক।
বাবার চেহারা ও পোশাক:
বাবা মাঝারি লম্বা, উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ রং, চোখে চশমা পড়েন। আমার বাবা নীল শার্ট ও কালো প্যান্ট পরে অফিস যান। বাড়িতে লুঙ্গি বা পাজামা আর গেঞ্জি পরে থাকেন।
বাবার দৈনন্দিন জীবন:
ভোর ৫:৩০ নাগাদ বাবা বিছানা ছাড়েন। পরিষ্কার হয়ে খানিক শরীর চর্চা করেন তারপর নিজের চাষের জমি দেখতে চলে যান। কখনো কখনো বাড়ীর বাগানে ফুল গাছের পরিচর্যা করেন। ফুল গাছ ওনার খুব প্রিয়। সকালের নাস্তা আমরা একসাথেই করি তার পর বাবা অফিসে চলে যান।
বাবার গুণাবলী:
বাবার সবচেয়ে বড় গুণ হলো সততা। তিনি নিজের সম্মান বজায় রাখার জন্য খুব সচেতন। গত বছর এক ব্যবসায়ী বাবাকে ঘুষ দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তা তিনি নিতে অস্বীকার করেন। তিনি গরীব লোকের সাহায্য করতে পিছপা হন না।বাবা পরিবারের প্রতিও খুব দায়িত্বশীল। মাকে কখনো উঁচু গলায় কথা বলতে শুনিনি।দাদুর অসুখের সময় তিনি সারা রাত জেগে তার সেবা চালিয়ে যেতেন।
আমার প্রতি বাবার ভালোবাসা:
বাবা আমাকে অনেক ভালোবাসেন, কিন্তু আমার অন্যায় তিনি প্রশ্রয় দেন না। পড়াশোনায় ফাঁকি দিলে বকা দেন। আমার বাবার কাছে ভালো নুম্বেরর থেকে আমি কি শ্ক্ষিকলাম সেটা বেশি গুরুত্ব পায় । বইমেলা থেকে বই কেনায় বাবার খুব উৎসাহ, তাই আমার জন্য পছেন্দের বই কিনে আনেন।
উপসংহার:
বাবা আমার জীবনের আদর্শ। তাঁর সততা, পরিশ্রম আর ভালোবাসা আমাকে প্রতিদিন অনুপ্রাণিত করে। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রাথনা করবো যেন বাবাকে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন দান করেন।
শ্রেণি ৭-৮ এর জন্য আমার বাবা রচনা (৫০০ শব্দ)
ভূমিকা:
সন্তানের কাঁচা সব থেকে কাছের মানুষ তার মা, কিন্তু তার বাবা হলো তার সব থাকছে নিরাপদ আশ্রয়। এই শব্দটার মধ্যে লিকিউএ আছে নির্ভরতা, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও সুরক্ষা । আমার জীবনে এই তিনটি স্তম্ব নিয়ে জুড়ে রোয়াছে “বাবা “।
বাবার সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
আমার বাবার নাম মিহির দাস । তাঁর বর্তমান বয়স ৫০ বছর। তিনি পেশায় একজন কর্মরত কোষাদক্ষ একটি সরকারি ব্যাংকে। আমাদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি । তবে বাবার চাকরির সূত্রে আমরা এখন শহরে থাকি।
বাবা তাঁর ছাত্রজীবনে খুব সাধারণ ছিলেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে মোটামুটি ফল করার পর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য এম.কম পাস করেছেন।
বাবার বাহ্যিক রূপ:
বাবার গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ এবং মাঝারি গড়ন। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। মাথার বেশিরভাগ চুল হালকা হয়ে গেছে। কালো চুল মুছে গিয়ে সাদা রং চলে আসছে । মুখে সবসময় একটা মৃদু হাসি, কিন্তু তার মধ্যেও বেশ গম্ভীর। এই গাম্ভীর্যের আড়ালে তার স্নেহ ও ভালোবাসা লেকিয়া আছে, সেটা শুধু আমিই জানি।
বাবার চরিত্র ও গুণাবলী:
ধৈর্যই হলো বাবার সব থেকে বোরো গুন। আমি দেখছি, অনেক সময় আমার অনেক বড় ভুল ও , বাবা চিৎকার না করে আমায় ঠান্ডা ও শান্ত ভাবে বোঝায়। তাতে পুনরায় ভুল করতে আমার দিধা বোধ হয়।
বাবা অসম্ভব সৎ একজন মানুষ। ২৩ বছরের কর্মরত জীবনে কখনো করার কাছ থেকে পারিতোষিক নেননি। আমি তাকে দেখেছি অনেক সময় সে দুস্থ্য শিশুদের বিনামূল্যে টিউশন দিতেন। সেই রকম একজন ছাত্র আজ লন্ডনে ডাক্তারি করছেন।
বাবা পড়তে ভালোবাসেন। বাবার ঘরটাকে একটি ছোট লাইব্রেরি বলা যেতে পারে। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, শরৎচন্দ্র থেকে শুরু করে হুমায়ূন আহমেদ, বাবা সবার বই পড়েন। আমাকেও পড়ার অভ্যাস তিনিই করিয়েছেন।
পারিবারিক জীবনে বাবা:
আমাদের পরিবারে বাবাই মূল কেন্দ্রবিন্দু। দাদু ও ঠাকুমা মারা যাওয়ার পর বাবা তাঁর ছোট ভাইকে পড়াশোনা করিয়েছেন, বিয়ে দিয়েছেন। আমার কাকা এখন একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার।
মায়ের সাথে বাবার সম্পর্ক বন্ধুর মতো। তাঁরা প্রতিদিন রাতে এক কাপ চা নিয়ে গল্প করেন। সংসারের ছোট-বড় সব সিদ্ধান্ত বাবা মায়ের সাথে আলোচনা করে নেন। মাঝেমধ্যে বাবা মামকে তার রান্নায় সাহায্য করেন।
বাবা ও আমি:
বাবা আমার প্রথম শিক্ষক। ছোটবেলায় বাবার কাঁধে চড়ে আমি মেলা দেখতে গেছি । এখন বড় হয়েছি, কিন্তু বাবার হাত ধরার অভ্যাসটা ছাড়তে পারিনি।
বাবা আমাকে শুধু পড়াশোনা শেখান না, জীবনদর্শন শেখান। গত বছর আমি স্কুলে এক বন্ধুর সাথে ঝগড়া করে এসেছিলাম। বাবা সেদিন বললেন, “রাগ মানুষকে ছোট করে দেয়, ক্ষমা মানুষকে বড় করে।” এই কথাটা আমি কখনো ভুলব না।
উপসংহার:
আমার কাছে বাবা একজন অভিভাবক, এক আদর্শ ও অনুপ্রেরণা। তার নীতি, সততা, কর্মদক্ষতা ও আমাদের প্রতি ভালোবাসা আমাকে বড়ো হতে সাহায্য করে। আমি একদিন আমার বাবাকে গর্বিত করা তুলবো। একদিন সবাই বলবে,” ওই দেখো, পলাশের বাবা আসছে। ” ঈশ্বরের কাছে একটাই প্রাথনা, তিনি যেন সর্বদা সুস্থ ও আনন্দে থাকেন।
কী করলে “আমার বাবা রচনা” সত্যিই গুরুত্ব পাবে?
বইয়ের মুখস্থ রচনা যেকোনো শিক্ষক চিনে ফেলেন। তোমার রচনা যদি অন্য সবার মতো হয়, নম্বরও গড়পড়তাই পাবে।
আসল গুরুত্ব পাবে যখন তুমি:
১. নিজের বাবার আসল নাম, পেশা, বয়স লিখবে। মুখস্থ বা বানিয়ে লিখলে সেটা শিক্ষক ধরেই ফেলবে।
২. একটা সত্যি ঘটনা যোগ করবে। যেমন: তোমার বাবাকে কোনো ব্যাক্তি ঘুষ দিতে চেয়েছিলেন, সেটা তোমার বাবা প্রত্যাখ্যান করেন।
৩. বাবার একটা ছোট অভ্যাসের কথা বলবে। বাবা ধুম থেকে উঠে, পরিষ্কার হন, ব্যায়াম করেন, চাষের মাঠ পরিদর্শন করতে যান।
৪. বাবার শেখানো একটা কথা উল্লেখ করবে। বাবার মুখ থেকে শোনা একটা উপদেশ লেখায় গভীরতা আনে।
নিজে লেখা “আমার বাবা রচনা” কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বাজারে তুমি অনেক গাইড বই সংগ্রহ করতেই পারো, বা কোনো ওয়েবসাইট (website) থেকে নিজের মতো করা মুখুস্থ করে পরীক্ষায় বসতেই পারো। কিন্তু সেই রচনাটা তোমাকে কাল্পনিক বাবার রচনার ব্যাখ্যা দেবে। তাহলে কি সেটা নিজেই লেখা “আমার বাবা ” হলো।
মানছি , পরীক্ষার খাতায় তুমি নিজেই লেখো। কিন্তু নিজে লেখা আর নিজের কথা লেখার মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। তুমি তোমার বাবাকে গভীর ভাবে যেন ও ভাবতে পারো। ঠিক এই কারণেই লীজের কথায় রচনা লেখলে অনেক বেশি গুরুত্ত পাবে। যে মানুষটাকে তুমি প্রতিদিন দেখছো, তার কষ্ট বুঝতে পারছো, তার পাসে থাকছো – এই সমস্ত একান্ত তোমার নিজের লেখা।
আর শিক্ষকরা কিন্তু সাথে সাথেই বুঝে যান কোনটা মুখস্থ আর কোনটা নিজের লেখা। নিজের লেখা রচনায় আবেগ থাকে, ছোট ছোট সত্যি ঘটনা থাকে। এই জিনিসগুলোই বাড়তি নম্বর এনে দেয়।
বছর ১০ পরে তুমি যখন এই রচনাটা পড়বে, তখন বাবার সাথে কাটানো এই দিনগুলো আবার ফিরে পাবে। বইয়ের মুখস্থ রচনা সেটা দিতে পারবে না।
কী কী এড়িয়ে চলবে?
- মুখস্থ ভাষা-“পিতা পরিবারের প্রধান, পিতার ছায়া বটবৃক্ষের মতো”, এই ধরনের লাইন চলতি বইয়ে বহুবার পাবে । শিক্ষকরা সাথে সাথে চিনে ফেলেন কারণ এই ধরেন লেখা ৫০ বারেরও বেশি ওনাদের চোখে পরেছে ।
- মিথ্যা তথ্য-বাবা ডাক্তার নন, কিন্তু লিখে দিলে ডাক্তার, এই ধরনের কাজ করো না। সত্যি লেখার অভ্যাস করো।
- অতিরিক্ত প্রশংসা- বাবা পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ, বাবার মতো কেউ নেই, এই ধরনের কথা লেখা রচনাটা মান কমিয়ে দেয় । গুণের কথা বলার সময় উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও ।
- একই কথা বারবার- “বাবা আমাকে ভালোবাসেন” পাঁচবার লেখার দরকার নেই। একবার বলে উদাহরণ দিয়ে প্রমাণ করো।
- পরিবারের ব্যক্তিগত ঝগড়া বা সমস্যা- এই ধরনের পরিবারের সমস্যার কথা স্কুলের রচনায় লেখার দরকার নেই।
- ভুল বানান– ভালো রচনা লিখেও বানান ভুলের কারণে নম্বর কমে। লেখা শেষে অন্তত একবার নিজে পড়ে দেখো।
বাবার গুণাবলীর ভালো উদাহরণ কী হতে পারে?
শুধু “বাবা সৎ” লিখলে কিছু হয় না। উদাহরণ চাই।
সততা:
“বাবা একদিন বাড়ির ফেরের সময় ৫০০ টাকার একটা নোট পেয়েছিলেন। তিনি সেটা কুর্নিয়া নিয়ে রাস্তার এক ভিখারিকে দান করে বাড়ি ফিরে এসেছেন। “
পরিশ্রম:
“বাবা সকাল ৮টায় বের হন, ফেরেন রাত ৯টায়। তবু বাড়ি ফিরে আমার অঙ্কের খাতা দেখেন আর আমার স্কুলের সব কথা জনতা চান ।”
ধৈর্য:
“আমি একটা অঙ্ক ১০ বার ভুল করেছিলাম। বাবা একটি বারের জন্য আমায় বকেনি । তিনি আমায় শান্ত ও হাসি মুখে সব করিয়ে দিয়েছেলেন। “
উদারতা:
“প্রতি নববর্ষে বাবা অনাথ আশ্রম যান ও দেন করেন। “
শৃঙ্খলা:
“বাবা প্রতিদিন ভোরবেলা ঘুম থাকা উঠে আমাদের জমি দেখতে যান ।”
লক্ষ করো, প্রতিটা গুণের সাথে একটা ছোট গল্প আছে। এভাবে লিখলে রচনা আকর্ষণীয় হয়।
রচনায় কী কী অন্তর্ভুক্ত করা উচিত?
একটা ভালো “আমার বাবা” রচনায় থাকা চাই:
১. ভূমিকা: বাবার গুরুত্ব নিয়ে ১-২ লাইন।
২. পরিচয়: নাম, বয়স, পেশা, শিক্ষা।
৩. চেহারা ও পোশাক: সংক্ষেপে।
৪. দৈনন্দিন জীবন: সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাবার রুটিন।
৫. চরিত্র ও গুণাবলী: উদাহরণ সহ।
৬. পরিবারে বাবার ভূমিকা: মা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজনের সাথে সম্পর্ক।
৭. তোমার প্রতি বাবার ভালোবাসা: একটা ব্যক্তিগত স্মৃতি।
৮. উপসংহার: বাবার প্রতি তোমার অনুভূতি ।
ছোট ছোট শ্রেণী করা লিখলে রচনাটা খুব সুন্দর হয়ে ফুটে উঠবে।
রচনায় আলোচনার সাধারণ বিষয় কী হতে পারে?
- বাবার ছেলেবেলা ও পড়াশোনা
- বাবার কাজের সম্পের্কে
- বাবার শখ (বাগান করা, বই পড়া, গান শোনা)
- বাবার সাথে কাটানো বিশেষ মুহূর্ত (জন্মদিন, ভ্রমণ)
- বাবার শেখানো জীবনের শিক্ষা
- বাবার আদর্শ ও স্বপ্ন
- বাবার সাথে তোমার সম্পর্ক
- বাবা সম্পর্কে তোমার অনুভূতি
এর মধ্যে যেগুলো তোমার বাবার সাথে মিলে যায়, সেগুলোই বেছে নাও।
এরপর কী লিখবেন?
আপনি এইমাত্র আপনার বাবাকে নিয়ে লিখেছেন। এখন স্বাধীনভাবে লেখার জন্য নিচের বিষয়গুলো বেছে নিতে পারেন:
আমার মা রচনা- শ্রেণী ১-৮
‘আমার শ্রেণিকক্ষ রচনা (১ম–৮ম শ্রেণীর জন্য)
আমার পোষা প্রাণী – ১ম থেকে ৮ম শ্রেণির জন্য অনুচ্ছেদ
শেষ কথা
“আমার বাবা” রচনা শুধু পরীক্ষার জন্য একটা প্রশ্ন না। এটা তোমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটাকে নিয়ে কিছু লেখার সুযোগ।
তোমার বাবাকে নিয়ে লেখার সময় তার সম্পর্কে নিয়ে গভীর ভাবে ভাবো – তার কষ্ট, স্বপ্ন, ভালোবাসা, সব নিঃশব্দে চলা, তার দিন ও রাত কি ভাবায় তোমরা পাও, পরিবারের প্রতি তার ত্যাগ। সবমিলে একটা পর্ণ রচনা বা তোমার জীবনের অনুভূতি বোঝার এবং লেখার জায়গা।
তাহলে, কলম ধরো। প্রথমে এলোমেলো লেখা হবে কিন্তু পরে একদন ঠিক হয়ে যাবে।
আর একটা কাজ করো। রচনা লেখা শেষ হলে বাবাকে পড়ে শোনাও। তাঁর চোখে যে আনন্দটা দেখবে, সেটাই তোমার আসল পুরস্কার।
“আমার বাবা রচনা” নিয়ে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
“আমার বাবা” রচনা কোন কোন শ্রেণির জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
এই রচনাটি সাধারণত শ্রেণি ১ থেকে ৮ পর্যন্ত বাংলা পরীক্ষায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা, ইউনিট টেস্ট ও হোমওয়ার্কে এই বিষয়টি আসে।
নিজের বাবার সত্যি তথ্য লেখা কি জরুরি?
হ্যাঁ। নিজের বাবার আসল নাম, পেশা, অভ্যাস বা বাস্তব ঘটনার কথা লিখলে রচনাটি অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য ও সুন্দর হয়। নিজেই বাবার সম্পর্কে সব ছোট জানা তথ্য নিশ্চয় লেখে উচিত। এই তথ্যগুলো একান্ত তোমার নিজের যা রোচনাটিকে মূল্যবান করা তুলবে। তোমার শিক্ষকও এই রচনাটি মনোযোগ সহকারে পড়ে আনন্দ পাবেন এঁবং তুমি ভালো নম্বর ও পাবে।
রচনায় বাবার কোন কোন গুণের কথা লেখা যেতে পারে?
তুমি বাবার সততা, পরিশ্রম, ধৈর্য, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, উদারতা বা শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার- এই গুণগুলি তোমার রচনার ভীত হয় উঠবে ।
“আমার বাবা” রচনায় উপসংহার কীভাবে লিখব?
উপসংহারে বাবার প্রতি তোমার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও ভবিষ্যতেটমি তোমার বাবার জন্য যা যা করতে চাও তা উল্লেখ করা উচিত ।তাহলেই রচনার শেষটা ভালো হবে।
📖 ৫০০+ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সাথে থাকুন
প্রতিদিনের রচনা, ওয়ার্কশিট ও লেখার টিপস টেলিগ্রামে।

আমি কোনো পেশাদার লেখক নই। ইংরেজি সাহিত্যে আমার কোনো ডিগ্রিও নেই। আমার যা আছে, তা হলো—গত দশ বছর ধরে শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াটি কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা; চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এমন এক ছেলে, যে আজও তার লেখালেখির কাজে আমার সাহায্য চায়; এবং এই অকৃত্রিম বিশ্বাস যে—প্রতিটি শিশুরই বলার মতো মূল্যবান কিছু না কিছু থাকে; তাদের কেবল প্রয়োজন একজন সঠিক পথপ্রদর্শকের।